1. admin@dailysunrisebangla.com : admin :
বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অসুস্থ সাংবাদিকের পাশে ধামরাই থানার ওসি দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার করোনা প্রতিরোধী টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু স্থগিত সিনিয়র স্টাফ নার্সের মৌখিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ অলিম্পিকের দ্রুততম মানব হয়েছেন ইতালির অ্যাথলেট লেমন্ত মার্সেল জ্যাকবস দুই মডেলের বাসায় অভিযানে মদ,সিসা,ইয়াবা সহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে অসুস্থ সাংবাদিক মোঃ রেজাউল করিম কে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় দেয়া হবে বয়স্কদের টিকা ধামরাইয়ে টাকা না দেওয়ায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন খুলনার চার হাসপাতালে আরও ১৬ জনের মৃত্যু আজ বিশ্ব বাঘ দিবস

ঈদের সন্ধ্যায় লোকারণ্য কানায় কানায় ভরা হাতিরঝিল

বুলবুল , নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৫ মে, ২০২১
  • ৬৪ বার পঠিত

ঈদুল ফিতরের আগে অনেকটাই জনমানবশূন্য ছিল রাজধানীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হাতিরঝিল। তবে, ঈদের দিন শুক্রবার (১৪ মে) বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতিরঝিলে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। অনেকে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের অনন্দ উপভোগ করতে এসেছেন হাতিরঝিলে। হাতিরঝিল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কেউ ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়ে, আবার কেউ ঝিলের ধারে গাছের ছায়ায় বসে শীতল বাতাসে উপভোগ করছেন ঈদের আনন্দ। গল্প, আড্ডা আর ঝিলের ধারে ঘুরে বেড়াতেও দেখা গেছে অনেককে।

 

তবে ওয়াটার ট্যাক্সিতে শুধু বিনোদন নয়, নিজ নিজ গন্তব্যেও যাচ্ছেন রাজধানীর কর্মব্যস্ত মানুষ। ঈদ উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো এবার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়নি। করোনা মহামারির বিস্তার রোধে কর্তৃপক্ষ অনেক আগ থেকেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বাসায় ঈদের আনন্দ পালনের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। তাই, রাজধানীর বেশিরভাগ নিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় মানুষের চাপ পড়েছে হাতিরঝিলে। প্রতিবছর ঈদের দিন রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কোথাও নামে মানুষের ঢল। কিন্তু গত বছর এবং চলতি বছর করোনা মহামারির কারণে সে চিত্র নেই রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। চিড়িয়াখানা, জাতীয় জাদুঘর এবং অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। রাজধানীবাসী মনে করছিলেন করোনার কারণে ঈদ উৎসবের আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়বে। কিন্তু রাজধানীর হাতিরঝিলে আসলে যেকোনো মানুষ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে। নগরীর অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হাতিরঝিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিকেল ৪টার পর থেকেই স্রোতের মতো মানুষ আসতে থাকেন। তখনো পশ্চিম আকাশে রোদ পুরোপুরি পড়েনি। সূর্যের প্রখর তাপ লক্ষ্য করার মতো। কিন্তু, বিনোদনপ্রেমী মানুষ ছুটে আসছেন হাতিরঝিলে। সন্ধ্যার পরও আসেন অনেক মানুষ। রাতেও আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকেন বিনোদনপ্রেমী নগরবাসী। হাতিরঝিলে বেড়াতে আসা মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানান গেছে, রাজধানীর অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্র সেভাবে খোলা না থাকায় গরম ও মানুষের ভিড় ওপেক্ষা করে তারা এখানে এসেছেন একটু সস্থির জন্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ। শাহবাগের শিশুপার্ক সংস্কারের জন্য গত কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। বন্ধ জাতীয় জাদুঘর, মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা, শ্যামলীর ডিএনসিসি ওয়ান্ডার ল্যান্ড। এ ছাড়া ওসমানী উদ্যান, রমনাপার্ক, জোড়পুকুর মাঠ, বাসাবোর শহীদ আলাউদ্দিন পার্ক, পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত রসুলবাগ পার্কসহ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য মাঠ ও পার্কগুলো বন্ধ রয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যে এসব বিনোদনকেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই ঈদের দিন বিকেল থেকেই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েন হাতিরঝিলে।  হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রহিম সাহেব দৈনিক সানরাইজ বাংলা কে  বলেন, ‘হাতে সময় কম থাকায় স্ত্রী-সন্তানদের হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়ে আনন্দ উপভোগ সম্ভব হয়নি কখনো। তাই আজ ঈদেরদিন বিকেলে ঘুরতে বের হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘এখানে আসার সময় হয় না। অনেকদিন ধরে ছেলে-মেয়েরা বায়না ধরেছে ওয়াটার ট্যাক্সিতে ঘুরবে। ঈদেরদিন বিকেলে বাসা থেকে বের হতে চাচ্ছিলাম না। দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে ওয়াটার ট্যাক্সির রামপুরা কাউন্টারে আসলাম। দেখি একটু আনন্দ পাওয়া যায় কিনা।’ পরিবার-পরিজন নিয়ে উত্তরা থেকে হাতিরঝিলে এসেছেন মিজানুর রহমান। খোলা বাতাসে বসে ঝিলের ধারে ঘাসের ওপর বসে উপভোগ করছিলেন দর্শনার্থীদের পদচারণা ও ঝিলের সৌন্দর্য। আলাপচারিতায় তিনি দৈনিক সানরাইজ বাংলা কে  বলেন, ‘লকডাউনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া আর নিজের ব্যস্ততার জন্য গ্রামের বাড়ি যেতে পারিনি। তাই ঢাকাতেই ঈদ করতে হলো। এখন ব্যস্ততার কারণে স্ত্রী আর ছেলে-মেয়েকে তেমন সময়ও দিতে পারি না। তাই ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এসেছি। এফডিসি থেকে পুুলিশ প্লাজা, গুলশান গুদারাঘাট, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করতে ৩০ মিনিট সময় লাগবে। প্রতিটি টিকিটের মূল্য আলাদা আলাদা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবকটি ট্যাক্সি চলাচল করে। আজ ঈদেরদিন ব্যাপক মানুষের সমাগম হয়েছে। ঈদ মৌসুমে আগামী কয়েকদিন বিনোদনপ্রেমীদের জন্য ঝিল উৎসবমুখর থাকবে। চক্রাকার বাস রয়েছে।’

 

হাতিরঝিলের আকর্ষণ মিউজিকের সঙ্গে ওয়াটার শো। খোলা আকাশের নিচে মনোরম পরিবেশে হাতিরঝিলে আলোর সঙ্গে পানির ফোয়ারা। মিউজিকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচতে থাকে এসব ফোয়ারা। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় মিউজিক্যাল ড্যান্সিং ফাউন্টেইন। এর ফোয়ারার পানি ১০ মিটার থেকে ৭০ মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠে। মিউজিক্যাল ড্যান্সিং ফাউন্টেইন এবং অ্যাম্পিথিয়েটারের বাড়তি বিনোদন উপভোগ করার সুযোগ মিলেছে ঈদ উৎসবে। ফোয়ারা চালু থাকে ১৫ মিনিটের মতো। এটি উপভোগ করতে চাইলে সময়মতো আসতে হবে। কারণ এসব ফোয়ারা নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়া হয়। হাতিরঝিলের আশপাশের গুলশান, পুলিশ প্লাজা, মেরুল বাড্ডা, মধুবাগ ও মহানগর প্রজেক্ট এলাকা থেকে ১ হাজার ৯৮০ বর্গমিটারের এই রঙিন ফোয়ারা। হাতিরঝিলের গুলশান আড়ং ও পুলিশ প্লাজার মাঝামাঝি অংশে গোলাকার উন্মুক্ত মঞ্চ অ্যাম্পিথিয়েটার থেকেও তা উপভোগ করা যায়। বসার জায়গা নিয়ে চিন্তা নেই, কেন না পুরো হাতিরঝিলজুড়েই বসার বেঞ্চ, টুল, সিড়ি ইত্যাদি রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সর্বদা পুলিশ কাজ করছে বিভিন্ন পয়েন্টে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত ©২০২১ দৈনিক সানরাইজ বাংলা
Theme Customized BY Theme Park BD