1. admin@dailysunrisebangla.com : admin :
বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ১২:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অসুস্থ সাংবাদিকের পাশে ধামরাই থানার ওসি দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার করোনা প্রতিরোধী টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু স্থগিত সিনিয়র স্টাফ নার্সের মৌখিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ অলিম্পিকের দ্রুততম মানব হয়েছেন ইতালির অ্যাথলেট লেমন্ত মার্সেল জ্যাকবস দুই মডেলের বাসায় অভিযানে মদ,সিসা,ইয়াবা সহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে অসুস্থ সাংবাদিক মোঃ রেজাউল করিম কে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় দেয়া হবে বয়স্কদের টিকা ধামরাইয়ে টাকা না দেওয়ায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন খুলনার চার হাসপাতালে আরও ১৬ জনের মৃত্যু আজ বিশ্ব বাঘ দিবস

জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জহুরা বেগমের ইন্তেকাল ।

আব্দুল আউয়াল ধামরাই
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৯ মে, ২০২১
  • ৯২ বার পঠিত

“একজন স্বেচ্ছাসেবকের আত্মসমর্পণ”

গত ২৮ মে/২০২১ শুক্রবার বিকেল ৩.০০ ঘটিকার সময় জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জহুরা বেগম নামে এক মহিলা মারা গেছে!!!
মৃত এই মহিলাটির নাম জহুরা বেগম (বিধবা) গ্রাম: গাংগুটিয়া, ধামরাই, ঢাকা। আজ জুমার নামাজের সময় মারা গেছেন, উনি জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে খুবই কাছ থেকেই একজন অসহায় মানুষের তিলে তিলে শেষ হয়ে যাওয়া দেখতে হলো।।
গত বছর ১৫ মে/২০২০ শুনতে পাই একজন অসহায় বিধবা মহিলা অনেক অসুস্থ– ঐ দিনই সংগঠনের কিছু ত্রাণ নিয়ে ওনাকে দেখতে যাই, আমাকে দেখে ওনি খুশী হলেন, কাঁদলেন এবং ওনার জীবনের গল্প বললেন-
“অসুস্থ হওয়ার আগে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে কোন মতে সংসার চালাতেন। তিনি বলেলন জরায়ুতে ইনফেকশন, অসহ্য ব্যাথা সইতে না পেরে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আত্মহত্যা করার, এরই মধ্যে আত্মীয় স্বজনের সহযোগিতায় অপারেশন হল কিন্তু তারপরও শুধু ব্লাড ঝরে, এখন ডাক্তার বলছে আমার ক্যান্সার হইছে” বলে কেঁদে দিলেন কোথায় টাকা পাব, কে আমার চিকিৎসা করাবে “??

সান্ত্বনা দিলাম, বললাম এর আগে চিকিৎসা করাতে যারা যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে আবারও যান। আমারা friends2000.com (একটি স্বেচ্ছাসেবী সংঘটন ) ও পাশে থাকার আশ্বাস দিলাম- কিছুদিন চিকিৎসা হল, থেরাপি নিল” শেষ দিকে আর পারছিল না। শেষ একটা থেরাপি নিতে হবে ১২০০০/- লাগবে, কিন্তু কিভাবে বারবার এদের কাছে চাইবে, কে আবার ও টাকা দিবে, চাইতে লজ্জা করে– বলে এলেপ্যাথী ঔষধের দাম বেশি তাই হোমিওপ্যাথি খাচ্ছে এখন। মাঝে আমার বেশ কয়েক বারই কিছু সাহায্য দেওয়ার জন্য ওনাকে দেখতে যাওয়া হয়েছে, কখনো সংগঠনের পক্ষ থেকে, আবার কখনো নিজ উদ্যোগে ।
এই রমজানের প্রথম দিনও দেখতে গেলাম হেঁটে হেঁটে কথা বলল, বললাম শেষ থেরাপি যদি নিতে চান তাহলে আমার বন্ধু রবিউল আউয়াল সহযোগিতা করতে চায়, কিন্তু দেখলাম কিছুটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে, বলল ডাক্তার ২ মাস আগে করতে বলেছিল এখন তো অনবরত পঁচা রক্ত ঝরছে। এখন কি আর করা যাবে? কিছু টাকা দিয়ে চলে আসলাম।
এরপর আবার ঈদের আগের দিন ঈদ সামগ্রী ও কিছু টাকা দিতে গেলাম কিন্তু এই দিন দেখলাম সে আর বিছানা থেকে উঠতেই পারছে না, শুধু মাথাটা উঁচু করতে পারছিল। বলল এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না। ওনার কাগজ পত্র গুলো চাইলাম দেখি কিছু করা যায় কিনা?

ভরাক্রান্ত মন নিয়ে চলে আসলাম আর ভাবতে থাকলাম মাত্র একমাসের ব্যবধানে এত খারাপ অবস্থা হলো। কি করা যায়–? ঈদের পর প্রথম দিন অফিসের কোলিগদের সব বললাম শুনে অফিসের শরিফ ভাই, হাফিজ ভাই আমার সাথে যেতে চাইল এবং কয়েকজনের কাছ থেকে ভালো কিছু কালেকশনও করলেন, তিনজনে গত সপ্তাহে দেখতে গেলাম- কি হৃদয় বিদারক দৃশ্য– মানুষ কত অসহায় শুধু কথা বলতে পারছে!!! শুধু বললেন- দোয়া করতে আল্লাহ্ যেন তারাতারি ওনাকে নিয়ে যান।

আল্লাহ্ আজ এই কষ্ট থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছেন কিন্তু ওনার জানাজা থেকে আসার পর আমার মনটা খুবই ভারাক্রান্ত, শরীরটা ভার ভার লাগছে, কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। চোখে চোখে ভাসছে ওনার
স্নেহমাখা কথাগুলো, মনে হচ্ছে আমার আরো কিছু করার ছিল। ওনার কাগজ পত্র গুলো আরো আগে নেওয়া উচিত ছিল। ভাবতেই পারছিনা এতো তারাতারি ওনি চলে যাবেন। যদি ওনার শেষ কেমোথেরাপি টা দিতে পারতাম, তাহলে হয়তো আরো কিছুদিন বাঁচতেও পারতেন, ওনি অন্তত শেষ সান্ত্বনা টুকু তো নিয়ে যেতে পারতেন, কিছুই ভালো লাগছে না।।
গত একবছরে ৮/৯ বার যাওয়া হয়েছে খুব কাছ থেকে দেখেছি ওনার দারিদ্রতা, অসহায়ত্ব– গত তিনটি ঈদে আগের দিন আমি দেখা করতে গিয়েছি, ঈদ সামগ্রী দিয়েছি– আর শত কষ্টের মাঝেও আমার প্রতি তার স্নেহ আর ভালবাসা দেখেছি, আমার ও কিছুদিন পরপর মনে হতো ওনি হয়তো আমার আশায় পথ চেয়ে আছেন, অমনি ছুটেও যেতাম, কেমন যেন একটা বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।
কিন্তু ওনার কাছে আমাদের আত্মসমর্পণ করতেই হলো। এই সমাজ, এই দারিদ্র্যতার উপর অভিমান করে চলেই গেলেন। স্বেচ্ছাসেবকরা চেষ্টা করে, কিন্ত সব সময় কি পারে—? ওনি আর পথ চেয়ে থাকবেন না, আর দেখতে যাওয়া ও হবে না, দোয়া করি আল্লাহ্ যেন ওনাকে ভাল রাখেন।।

গত এক বছরে (১৫ মে/২০২০ হতে ২৮ মে/২০২১ ) আমার এই জার্নিতে যারা যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, সহমর্মিতা দেখিয়ে ছিলেন, বিশেষ করে- Friends2000.com, রবিউল আউয়াল, ফরিদা ইয়াসমিন, শরিফ ভাই, হাফিজ ভাই সহ সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।।
আর ঘৃনা তাদের প্রতি- যারা তার এই অসুস্থতার কারণে- তার বাড়ির পাশ্ববর্তী পুকুরে ও নদীতে গোসল করতে নিষেধ করেছিলেন, নিষেধ করেছিলেন তার জামা কাপর টুকু ধৌত করতে। আশা করছি তাহারা এখন থেকে মানবিক হবেন, এই রকম জহুরাদের পাশে আপনারাও দাঁড়াবেন।।।।
সবাই আমার/আমাদের জন্যও দোয়া করবেন এই রকম জহুরাদের ভালবাসা নিয়ে একজন মানবিক মানুষ হয়েই যেন বাঁচতে পারি।।।

মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল
স্বেচ্ছাসেবক
Friends2000.com।।।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত ©২০২১ দৈনিক সানরাইজ বাংলা
Theme Customized BY Theme Park BD