1. admin@dailysunrisebangla.com : admin :
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

গরু চোরের বিচারের জরিমানার টাকা মাতাব্বরদের পকেটে

ধামরাই প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
  • ১৬২ বার পঠিত

ঢাকার ধামরাইয়ে সানোড়া ইউনিয়নের মহিষাশী গ্রামে গরু চোরের বিচারের জরিমানার টাকা মাতাব্বরদের পকেটে এবং বিচারে চোরকে একশত বার কান ধরে উঠবস ও একশত জুতার বাড়ী দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার(২৭জুন)সকাল ১১টার সময় ধামরাই উপজেলা মহিষাশী গ্রামের মোঃ সাইফুল মাষ্টারের বাড়ীতে বিচারের আয়োজন করেন গ্রামের মাতাব্বরা। সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসির কাছ থেকে জানাযায়, বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে মহিষাশী গ্রামের মোঃ চাঁন মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম কসাই পাশের বাড়ীর আব্দুল মজিদের গোয়াল ঘর থেকে একটি গরু চুরি করে জয়পুরা এলাকার

মোঃ আলামিনের গাড়ীতে করে কালামপুর বদ্দু মিয়ার বাড়ীর গোয়াল ঘরে রাখে।শুক্রবার সকালে ক্রেতার চাহিদা বেশি থাকে সেইজন্য চুরি করা গরুটি জবাই করে বিক্রি করার জন্য বদ্দু মিয়ার গোয়াল ঘরে থেকে বাজারে নেওয়ার পথে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হলে গরুটিকে আটক করে।পরে বদ্দু গরুটি এস,বি-২ ইটভাটার দক্ষিণ পাশে একটি গাছের সাথে বেধেঁ রেখে দৌড়িয়ে পালিয়ে যায়।পরে ঐ এলাকার লোক সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধমে (ফ্রেসবুক) গরুর ছবি ছেড়ে দিলে মালিক আব্দুল মজিদের ছেলে এসে গরুটি নিয়ে যায়।এর পর শুরু হয় কে গরু নিয়ে ঐখানে রেখেছে।তখন বদ্দু মিয়া বলে শফিকুল কসাই রাতে গরু এনে আমার গোয়াল ঘরে রেখেছে।

সকালে বদ্দু মিয়া গরুটি নিয়ে কালামপুর স্ট্যান্ডে কসাই খানায় নিতে গেলে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হলে তার কাছে জানতে চায় কার গরু। তখন বদ্দু মিয়া শফিকুল কসাইয়ের নাম বলে।এই নিয়ে মহিষাশী গ্রামের আব্দুল মজিদ গরু চুরের বিচার দাবি করেন।পরে গ্রামের লোকজন শফিকুল তার পিতা চাঁন মিয়ার উপস্থিতে গ্রামের মাতাব্বরদের নিয়ে সাইফুল মাষ্টারের বাড়ীতে ২২শে জুন বিচারের আয়োজন করেন। সেই বিচারে শফিকুল কসাই স্বাক্ষী প্রমাণে চুর সাব্যস্ত হয়।পরে সাইফুল কাসাইকে একশত জুতার বারি ও একশত বার কানধরে উঠবস করানোসহ ১লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।সেখানে কসাই শফিকুলের বাবা চাঁন মিয়া সবার কাছে আপত্তি করে ২০হাজার টাকা কম দেয়।এরপর সেই জরিমানার টাকা মাতাব্বর মোঃ ইউছুব আলী, আব্দুল খালেক ও মাসুমের কাছে জমা রাখে।পরে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে কসাই শফিকুল ও তার বাবা চাঁন মিয়ার কাছ থেকে স্বাক্ষর রাখে এবং বলা হয় ভবিষ্যতে তোমার ছেলে যদি এই ধরণের কাছ করে তাহলে তোমাকে ও তোমার ছেলেকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

কিন্তু এখানে বলা হল না জরিমানার টাকা কি করা হবে। সেই টাকার হদিজ এখন আর কেউ খুজে পাচ্ছে না। এই বিষয়ে শফিকুল কসাই চুরের কথা স্বীকার করে বলেন আমি গরু চুরি করেছি। কিন্তু আবার সে গরু তো ফিরত দিয়েছি। তার পরও গ্রামের মাতাব্বরা আমাকে জুতা দিয়ে পিটিয়ে কানধরে উঠবস করিয়ে আবার ১লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এই বিষয়ে জানতে বদ্দু মিয়ার বাড়ীতে গেলে সে আমাদের দেখে দৌড়িয়ে পালিয়ে যায়। এই বিষয়ে গরুর মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, আমার গোয়াল থেকে গরু চুরি হয়েছিল। কিন্তু সে গরু পরের দিন খুজ করে কালামপুর একটি ইটভাটা থেকে পেয়েছি।

তবে এটাও জেনেছি যে আমার গরু শফিকুল কসাই চুরি করে নিয়েছিল। এই বিষয়ে শফিকুলের বাবা চাঁন মিয়া বলেন, আমার ছেলে গরু চুরি করেছে কিন্তু সেই গরু আবার ফেরত দিয়েছে। এরপরও আমার ছেলেকে গ্রাম্য সালিশে কয়েকশত লোকের সামনে জুতা দিয়ে পিটিয়ে এবং কানধরে উঠবস করিয়েছে মাতাব্বরা।তারপর আবার ১লাখ টাকা জরিমানা করিয়ে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে মাতাব্বরা। এই বিষয়ে মাতাব্বর মোঃ আব্দুল খালেক বলেন, গ্রামের সকল ছোট বড় সবাইকে নিয়ে সাইফুল মাষ্টারের বাড়ীতে গরু চুরের বিচারে বসি। সেই বিচারে শফিকুল কসাই স্বাক্ষী প্রমাণে গরু প্রমাণ হলে তাকে শাস্তিসরুপ জুতার বারি ও কানধরে উঠবস এবং সেই সাথে ১লাখ টাকা জরিমানা করানো হয়। তবে ১লাখ টাকার মধ্যে শফিকুলের বাবা চাঁনমিয়া ৮০হাজার টাকা দিয়ে বিচারের সবার কাছে ক্ষমা চাই। এই বিষয়ে মহিশাষী গ্রামের আ্ওয়ামী-লীগের নেতা মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, গরু চুরের বিচার সাইফুল মাষ্টারের বাড়ীতে আয়োজন করে সেখানে গ্রামের প্রায় লোকই উপস্থিত ছিলেন।সেই বিচারে শফিকুল কসাই চুর বলে সাব্যস্ত হয়। সেই জন্য তাকে ১লাখ টাকা জরিমানা এবং শাস্তি দেওয়া হয়। এরপর সিদ্ধান্ত হয় ভবিষ্যতে যদি কোন চুরি করে তাহলে তাকে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত ©২০২১ দৈনিক সানরাইজ বাংলা
Theme Customized BY Theme Park BD