1. admin@dailysunrisebangla.com : admin :
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০১:১০ অপরাহ্ন

কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা

মোঃ আব্দুর রউফ,ধামরাই(ঢাকা)প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১
  • ৭১ বার পঠিত

ধামরাইয়ে টুং টাং শব্দেই যেন জানান দিচ্ছে আর কিছুদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা।কোরবানির পশু জবাই ও মাংস সাইজ করতে ছুরি,চাপাতি,দা,বঁটি এই গুলি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কামারপাড়ার কামাররা।গরু কোরবানীর সেই যন্ত্রগুলো সংগ্রহ এবং প্রস্তুত রাখতে এখন সবাই ব্যস্ত। আর এউপকরণ তৈরি ও শান বা লবন-পানি দেয়ার কাজে প্রয়োজন কামারদের

।পশু কোরবানির দা, ছুরি ও চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামারপাড়ায় ভিড় করছে। আবার কেউ কেউ পুরানো সরঞ্জাম মেরামত অথবা শান দিয়ে নিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানায় কার্মকাররা।

বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললে ও পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠে এ শিল্প।শান দেয়া নতুন দা,বঁটি,ছুরি ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে।ভিতরে চলছে কাজ।দোকানের জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে অবিরাম ঘাম।চোখে মুখে প্রচন্ড ক্লান্তির ছাপ।তবু থেমে নেই তারা।প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কাজের ব্যস্ততা। ঈদুল-আজহা সামনে রেখে উপজেলার কামার দোকান গুলিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কর্মকাররা। এ উপজেলায় ১টি পৌরসভাসহ ১৬টি ইউনিয়ন রয়েছে।

পৌর এলাকার ঢুলিভিটা স্ট্যান্ডে, আমিন কাঁচা বাজারসহ ইউনিয়নগুলির বড় প্রতিটি বাজারেই আছে কামারের দোকান।কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সেখানে লোহা আর হাতুড়ির শব্দে এখন আকাশ-বাতাস মুখরিত।এ পেশার মানুষ সারা বছর কমবেশি লোহার কাজ করলেও ঈদুল আজহা সামনে রেখে বৃদ্ধি পায় তাদের কর্ম ব্যস্ততা।ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের রকমারি কর্মযজ্ঞ। কামাররা জানায়,দা আকৃতি ও লোহাভেদে ২০০ থেকে ৫০০টাকা, ছুরি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, চাকু প্রতিটি সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, হাড় কোপানোর চাপাতি প্রতিটি ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং পুরানো দা, বটি, ছুড়ি শান দিতে বা লবন-পানি দিতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।শেষ পর্যন্ত করোনার প্রভাবে এবং লকডাউনের বিধি নিষেধে অনিশ্চিত বাজার নিয়ে শংকায় মধ্য দিয়েই কাজ করছে বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী জাত পেশার কারিগর কর্মকাররা। ধামরাই আমিন কাচাঁ বাজারের দোকানি গনেস চন্দ্র সরকার জানান, বছরের অন্য দিনগুলোতে তেমন কাজ থাকে না। কিন্তু কোরবানির ঈদ এলে কাজের চাপ বেড়ে যায়।দিন-রাত কাজ করেও অবসর পাওয়া যায় না। ঢুলিভিটা স্ট্যান্ডের ইসমাইল হোসেন কর্মকার বলেন, ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে এই কাজ করছি। ঈদকে সামনে রেখে পাইকারী দোকানদার ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে এই সময়ে আমাদের কদর বেশ ভালই থাকে। তবে করোনার প্রভাবে এখন পর্যন্ত সেই রকম কাজের চাপ না থাকলেও আশা করছি চাহিদা আরো বাড়বে। আগে এই সময়টা থেকেই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হতো। কারিগররা আরো জানায়, কাঁচা-পাকা লোহা দিয়ে তৈরি করা হয় ধাতব যন্ত্রপাতি। তবে পাকা লোহার দা-ছুরির চাহিদা সব সময়ই বেশি থাকে এবং বেশি দামে বিক্রি হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত ©২০২১ দৈনিক সানরাইজ বাংলা
Theme Customized BY Theme Park BD