1. admin@dailysunrisebangla.com : admin :
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অফিস না করে বাড়ীতে বসে প্রতি মাসে সঠিক সময়ে বেতন উত্তোলন করে নিচ্ছেন

ধামরাই(ঢাকা)প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫১ বার পঠিত

ঢাকার ধামরাই উপজেলা যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অফিস না করে বাড়ীতে বসে প্রতি মাসে সঠিক সময়ে বেতন উত্তোলন করে নিচ্ছেন শারমীন ইসলাম শিমু। কারও কথার কোনো তোয়াক্কা করেন না তিনি।ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় কাগজ পত্র স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে ইউপি চেয়ারম্যান তার নিজ উদ্যোগে চকিদার দিয়ে সচিবের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তিনি ঐ কাগজপত্র স্বাক্ষর করেন পূর্ণরায় পাঠিয়ে দেন পরিষদে।এতে বিপাকে পড়েছে ঔই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো সাধারণ জনগণ।এমন ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৪ নং যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদে। সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব শারমিন ইসলাম শিমু।তিনি একই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বাস্তা নয়ারচড় গ্রামের মোঃ সিরাজুল ইসলামের মেয়ে।

তিনি ২০১৭ সালের ১১জুলাই যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি পরিষদে বেশিরভাগই অনুপস্থিত থাকেন।কোন মাসে মন চাইলে আসেন,আবার কোন মাসে আসে না।পরিষদে জন্ম নিবন্ধণ সাটিফিকেট,বিধবার কার্ড,বয়স্ক ভাতার কার্ড, গর্ববতী নারীদের কার্ডের কোন স্বাক্ষর প্রয়োজন হলে ঔই ইউনিয়ন পরিষদের ভার প্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী ইসহাক সকল কাগজপত্র গ্রাম পুলিশ (চকিদার) দিয়ে সচিবের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।সচিব বাড়িতে বসে ঔই কাগজে স্বাক্ষর করার পর তা আবার নিয়ে আসে পরিষদে।এতে মহা বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগীর সাথে সাথে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী ইসহাক। চেয়ারম্যানের কোন কথাই শুনে না ইউপি সচিব শারমিন ইসলাম শিমু।ইউনিয়ন পরিষদ যেন তার নিজের বাড়ি।এই নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এমপি মহোদয়কে চিঠির মাধ্যমে জানানোর পর, ডিসি অফিস, সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল হক, ডিডিএলজি অফিসে মৌখিক ভাবে জানানোর পরও কিছুই হয় নি।তিনি এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।অফিস না করে সরকারি বেতন ঠিকই উত্তোলন করছেন।সব দেখেও প্রশাসন যেন নীরব ভ‚মিকা পালন করছেন। ইউনিয়নের একাধিক ভুক্তভোগী ব্যক্তি বলেন, কোন প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে আসলে সব সময় চেয়ারম্যানকে পেলেও ইউপি সচিবকে পাওয়া যায় নি।একটি কাগজ স্বাক্ষরের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হয়।সচিবের বাড়ি থেকে স্বাক্ষর করিয়ে আনা হয সকল কাগজপত্র।এর চেয়ে আর কি কষ্ট হতে পারে।অথচ তিনি একজন ইউপি সচিব। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮ টা হতে বিকেল ৫ টায় পর্যন্ত অফিসে থাকার কথা থাকলেও মাসেও একদিন তাকে পাওয়া যায় নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনা সদস্য তার সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট করার জন্য ১ দিনের ছুটি নিয়ে আসেন।কিন্তু তিন দিন পর ইউপি সচিবের স্বাক্ষর পান।তাও আবার পরিষদের অফিসে নয়,সচিবের বাড়ি থেকে ঔই সেনা সদস্য মেয়ের জন্ম সনদে স্বাক্ষর আনা হয়। যাদবপুর গ্রামের হানিফ মিয়া বলেন,আমি কখনো ইউপি সচিব শারমিন ইসলামকে অফিস করতে দেখি নি।কিছু দিন আগে বয়স্ক ভাতা,বিধবা ভাতার কার্ডে,এলজিএসপি কাগজপত্রে স্বাক্ষর করানোর জন্য চেয়ারম্যান আমাকে সচিবের বাড়িতে পাঠান।কারণ তিনি অফিসে আসেন না।সেখানে কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করে কাগজপত্র স্বাক্ষর করে নিয়ে আসি পরিষদে। এ বিষয়ে যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী ইসহাক বলেন, আমার প‚র্বে মিজানুর রহমান মিজু চেয়ারম্যান ছিলেন।তার সময়েও তিনি অনিয়মিত।এক বছর আগে আমি মিজু চেয়ারম্যানের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।সে এখন আরো বেশি বেপরোয়া। মাসে মন চাইলে একদিন আসে আর না চাইলে আসে না।তার বাড়ি হতে আমার পরিষদের জনগণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্বাক্ষর করিয়ে আনতে হয়।আমি মহা বিপাকে আছি। দুই এক দিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে যাদবপুর স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাজ শুরু হবে। ঔই স্কুলের প্রায় ২ হাজার ৫ শত শিক্ষার্থী। তখন আবার তাদের কাগজপত্র নিয়ে আবার সচিবের বাড়িতে স্বাক্ষরের জন্য দৌড়াতে হবে। এই বিষয়ে যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শারমিন ইসলাম শিমু বলেন, পরিষদের কোন কাজ পেন্ডিং নাই।তবে বাড়ি থেকে কাগজপত্র স্বাক্ষর করে নিয়ে আসার কথা বললে তিনি প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার প্রতিবেদককে তার বাড়ীতে দেখা করার জন্য বলেন। এই বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি বলেন, এতোদিন হয়ে গেছে আমাকে বিষয়টি জানাই নি।বিষয়টি আমার কাছে বললে আমি আইনি ব্যবস্থা নিবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত ©২০২১ দৈনিক সানরাইজ বাংলা
Theme Customized BY Theme Park BD