1. admin@dailysunrisebangla.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন

নাতির মারধরের প্রতিবাদে প্রাণ গেল দাদার

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩৯ বার পঠিত

ঢাকার ধামরাইয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা রনি ও ছাত্রদলের কর্মী ইমরান, আসিফ এবং তার বাবার সাথে মারামারির ঘটনা ঘটে। এঘটনা শুনে দাদা জয়নুদ্দিন (৫৫) ঘটনা স্থলে এসে নাতী ও ভাতিজার মারধরের প্রতিবাদ করে উত্তেজিত হয়ে স্টোক করে তার মৃত্যু হয়।

শনিবার (১৯নভেম্বর) সকালে মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত জয়নুদ্দিনের ভাতিজা শুকুর আলীসহ তিন জন আহত হন। নিহত জয়নুদ্দিন ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের স্বপন বেপারীর ছেলে। আহতরা হলেন- নিহত জয়নুদ্দিনের ভাতিজা শুকুর আলী(৩৮) ও শুকুর আলীর ছেলে আসিফ (১৮) এবং ইমরান (১৯)।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল হওয়া নিয়ে ফাহিম আহমেদ ইমরান তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি- বিএনপি নামের ফেসবুক পেইজ এর একটি পোস্ট শেয়ার করেন ইমরান। সেখানে লেখা ছিলো, এক দফা এক দাবি, হাসিনা তুই কই যাবি? টেইক ব্যাক বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজ পথে। ফাহিম আহমেদ ইরানের ফেসবুকে এমন পোস্ট দেখে স্থানীয় আতিকুর রহমানের ছেলে ও ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রনি হোসেন আসিফ ও ইমরান কে ডেকে এনে পরিষদের ভিতরে আটকিয়ে মারধর করে। পরে এই খবর শুনে আসিফের বাবা শুকুর আলী রনির সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরে। এর এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা রনি, রনির সমর্থক ও শুকুর আলীর সাথে মারামারির ঘটনা ঘটে এবং শতাধিক মানুষের ভিড় জমে যায়।

মারামারির খবর পেয়ে কুশুরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সারোয়ার হোসেন বাবু মারামারি থামিয়ে ঘটনা স্থল থেকে নিয়ে শুকুর আলী, আসিফকে ও ইমরানকে ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে নিয়ে বসতে বলেন। পরে শুকুর আলীর চাচা জয়নুদ্দিন খবর পেয়ে পরিষদে এসে ইউপি সদস্য সারোয়ার হোসেন বাবুর সাথে উত্তেজিত হইয়ে যায়। এর এক পর্যায়ে জয়নুদ্দিন বুকে হাত দিয়ে নিচে পরে যায়। পরে উপস্থিত সবাই তার মাথায় পানি দিয়ে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভুক্তভোগী আসিফ বলেন, আমি এবং আমার বন্ধু ইমরান কে ডেকে নেয় রনি। আমাদের ডেকে নিয়ে মারধর ও হুমকিধামকি দেয়। পরে আমার বাবা আসলে আমার বাবাকেও মারধর করে রনিসহ তার সমর্থকরা। এর পর আমার দাদা জয়নুদ্দিন এলে তাকে বকা বকি করে মেম্বার। এবিষয়ে আহত শুকুর আলী বলেন, ছাত্রলীগের নেতা রনিসহ আরো কয়েক জন আমার ছেলে আসিফ ও তার বন্ধু ইমরান কে ডেকে নিয়ে মারধর করে। পরে আমি এর কারণ জানতে চাইলে রনি আমাকেসহ আমার ছেলেকে লাথি, কিল-ঘুষি দিয়ে মারধর করে।এর পর এলাকার লোকজন আমাদের বাঁচায়। আমাকে মারার খবর শুনে আমার চাচা জয়নুদ্দিন এসে জিজ্ঞেস করে মেম্বারকে, কেন মারলো। মেম্বার বাবু তখন আমার চাচার সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং উচ্চ স্বরে কথা বার্তা বলে। এর এক পর্যায়ে কাকা মাটি পড়ে যায়। নিহত জয়নুদ্দিনের ভাতিজা মোঃ রতন আলী (৩৮) বলেন, মারামারি দেখে মেম্বার বাবু শুকুর আলী ও আসিফকে ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে নিয়ে বসতে বলেন। যেন তাদের আর মারধর করতে না পারে কেউ। মারামারি শেষ হওয়ার ১০/১৫ মিনিট পর আমার চাচা জয়নুদ্দিন সেখানে আসে। এসে উত্তেজিত হইয়ে মেম্বার কে ধমক দিয়ে বলেন মেম্বার থাকতে আমার ভাতিজা, নাতিকে রনি মারে কিভাবে? মেম্বারও একটু উচ্চ স্বরে কথা বলে তার সাথে। কিন্তু মারামারির কোন ঘটনা ঘটেনি। পরে জয়নুদ্দিন বেশি উত্তেজিত হলে হঠাৎ বুকে হাত দিয়েই নিচে পড়ে যায়৷ পরে মেম্বারসহ আমরা তার মাথায় পানি দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে।

এবিষয়ে নিহত জয়নুদ্দিনের মেয়ে ইয়ার জান বলেন, আমার বাবা অসুস্থ ছিলেন। এর আগেও স্টোক করেছিলেন তিনি। কয়েক বছর আগে আমার বাবার ওপেন হার্ট সার্জারী করা হয়েছিলো। আমার বাবার লাশ ময়না তদন্ত না করার জন্য ধামরাই থানায় লিখিত আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আমাদের আবেদন শুনেন নি। এবিষয়ে আমাদের পরিবারের কারোরই কোন অভিযোগ নাই। শুকুর আলীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সহসভাপতি রনি হোসেন বলেন, ইমরান, আসিফ প্রধানমন্ত্রী কে কুটুক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। ওরা ছোট পোলাপান নিজেদের ছোট ভাই। তাই ডেকে এনে ওদের বোঝাইছি ওরা যেন এসব পোস্ট আর না করে। পরে আসিফের বাবা এসে আমার সাথে অযথা তর্ক করে। এক পর্যায়ে আমার উপরে হাত তুলে। আমিও পরে তাকে হিট করি। কিন্তু জয়নুদ্দিন মারামারির মধ্যে ছিলো না। তাকে কেউ মারেনি। এ বিষয়ে কুশুরা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সারোয়ার হোসেন বাবু বলেন, ছাত্রলীগ নেতা রনি ও ছাত্রদলের ছেলেদের সাথে মারামারি শুনে আমি সেখানে এগিয়ে যাই। পরে আমি তাদের সবাইকে শান্ত হতে বলি কিন্তু কেউ শুনে না। পরে শুকুর আলীদের আমি সেভ করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে বসতে বলি। পরে জয়নুদ্দিন কাকা আসেন। ওনি আমার সাথে উত্তেজিত হয়ে বুকে হাত দিয়ে মাটিতে পড়ে যায়।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  এঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত ©২০২১ দৈনিক সানরাইজ বাংলা
Theme Customized BY Theme Park BD