বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙেছে ফ্রান্সের। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে দলের পারফরম্যান্সের দায় নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন। তাছাড়া নিজেদের কৌশলের ভুল নিয়েও ব্যাখ্যা দেন ফ্রান্স অধিনায়ক।
বুধবার (১৫ জুলাই) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ডালাসের সেমিফাইনালে শুরু থেকেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পকেটে পুরে নিয়েছিল স্পেন। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের নিখুঁত পাসিং আর গতি নিয়ন্ত্রণের সামনে ফ্রান্সের মাঝমাঠ ছিল পুরোপুরি দিশাহারা।
ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, ‘মাঝমাঠে আমরা ছিলাম দুইজনের বিপরীতে তিনজন। স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে এটি খুব কঠিন। ফাবিয়ান রুইস ও রদ্রি অনেক সময় ও জায়গা পেয়েছে। আমাদের প্রেসিংয়ে সমন্বয়ের অভাব ছিল। আমার মনে হয়, আমাদের ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং করা উচিত ছিল, যাতে তাদের দৌড়াতে বাধ্য করা যায়।’
আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবে খেলতে পারিনি জানিয়ে ফ্রান্স অধিনায়ক বলেন, প্রযুক্তিগত বা কৌশলগত কোনো দিক থেকেই নয়। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারলে জয় পাওয়া যায় না। চলতি বিশ্বকাপে প্রথম ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করা ফ্রান্সের বিধ্বংসী আক্রমণভাগ স্পেনের রক্ষণদুর্গে এসে পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে। ম্যাচের ২২ মিনিটে ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিগনের ভুল ফাউল থেকে পেনাল্টি পায় স্পেন। ঠাণ্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল।
এরপর দ্বিতীয় অর্ধের শুরুতেই স্প্যানিশ রাইট-ব্যাক পেদ্রো পোরোর দারুণ এক গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলাতে কয়েকটি পরিবর্তন আনেন কোচ দিদিয়ের দেশম। বিরতির পর আদ্রিয়েন রাবিওটকে তুলে নিয়ে আসেন দেজিরে দুয়েকে। পরে মাঠে নামেন রায়ান শেরকিও। তবে কোনো পরিবর্তনই ম্যাচে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।
অধিনায়ক হিসেবে এই হারের গ্লানি মেনে নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘দলের অধিনায়ক হিসেবে এই হারের সব দায় আমি নিজের কাঁধেই নিচ্ছি, এতে আমার কোনো দ্বিধা নেই। আমরা ফাইনালে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি।
বিকল্প হিসেবে নেমে খেলা রায়ান শেরকি বলেন, ‘কী বলব বুঝতে পারছি না। তারা আমাদের চেয়ে প্রতিটি বিভাগেই ভালো খেলেছে। আমার মনে হয়, জয়ের ক্ষুধাও তাদের বেশি ছিল। আমি এখনও বিশ্বাস করি, আমাদের দল আরও ভালো। কিন্তু আজ স্পেনই সেরা ছিল।