
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কোনো শক্তির এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত। তবে আমরা নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ ঘোষণা চাই না। তাদেরকে রাজনৈতিক দল হিসাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতই নির্ধারণ করবে এই আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে।
গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। তিনি আরো বলেন, ৭১-এর চেতনাকে বিক্রি করতে করতে শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে আছে। অনেকবার বলেছি—শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।
জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কার কমিশন বা রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব পরিবর্তনের জন্য সংসদে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী গ্রহণ করা প্রয়োজন, যা হবে শতাব্দীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংশোধনী।জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই ৩৬ কি এমনিতেই হয়েছে? জুলাই দীর্ঘদিনের এক একদিনের বিন্দু বিন্দু জমে আমাদের এই সিন্ধু হয়েছে। এই জুলাই ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিএনপির ছাত্রদলের-যুবদলের অন্যান্য বিরোধী দলের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল কর্মীর আত্মত্যাগে। যখন কোনো আন্দোলন তার নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে দেওয়া হয় না তখনই অপরিহার্য হয়ে যায় সহিংস রক্তাক্ত আন্দোলনের। সেটাই হয়েছে বাংলাদেশে।